প্রশিক্ষণ ছাড়াই কী করে পাঠদান করছেন ৭১ হাজার শিক্ষক

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যমতে, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় পাঠদানরত মোট শিক্ষক ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫৩ জন। এর মধ্যে ৭১ হাজার ৭০২ জন শিক্ষক কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করছেন। এ হিসাবে মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ শিক্ষক এখনও অপ্রশিক্ষিত।মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় প্রশিক্ষিত শিক্ষক সংকটের তথ্য উঠে এসেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) এক প্রতিবেদনেও। ২০১৫ সালের নভেম্বরে দেশের ৯টি শিক্ষা প্রশাসনিক অঞ্চলের ৬ হাজার ৫৯৪টি বিদ্যালয় ঘুরে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানরত শিক্ষকদের অনেকেই অপ্রশিক্ষিত বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দেশের প্রায় ৪১ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারে না। এর মধ্যে ২৩ দশমিক ৭২ শতাংশ বিদ্যালয় বিভিন্ন সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহায়তা নিয়ে। আর ১৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বিদ্যালয় বাইরে থেকে বাণিজ্যিকভাবে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষা নেয়।আমরা জানি যে, টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হলো শিক্ষা।

শিক্ষার গুণগত মান অনেকাংশেই নির্ভর করে শিক্ষকের যোগ্যতা ও দক্ষতার ওপর। শিক্ষার প্রতিটি ধাপেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ অত্যাবশ্যক। কেননা শিক্ষা প্রতি মুহূর্তেই আপগ্রেড হয়। জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে শিক্ষার্থীর বোঝাপড়ার পর্ব অনেকটাই সম্পন্ন হয় মাধ্যমিক স্তরে। অথচ দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে প্রায় ৩০ শতাংশই অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক দিয়ে। পাঠ্যসূচিতে নতুন কোন পদ্ধতি চালু হলে সে বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হয়। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সেটিও হচ্ছে না। এখানে প্রশ্ন হলো- শিক্ষক নিজে না বুঝলে শিক্ষার্থীদের পড়াবেন কী করে? যদি কোন শিক্ষক নিজেই না জানেন যে প্রশ্ন কিভাবে হবে তবে তিনি কিভাবে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের ধারণা দেবেন।

এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কে? সহজেই বলা যায়, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থী ও গোটা সমাজ।পর্যাপ্ত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবে শিক্ষার্থীদের যথাযথ পাঠদান সম্ভব হয় না। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারায় মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হারও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিকে ভর্তি হওয়া শিশুদের ২০ শতাংশই পঞ্চম শ্রেণী শেষ করার আগে ঝরে পড়ে। মাধ্যমিকে গিয়ে ঝরে পড়ার এ হার দাঁড়ায় ৪০ শতাংশেরও বেশি। আর উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন না করে ঝরে পড়ছে প্রায় ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ হিসাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি মাধ্যমিক পর্যায়ে।এটা সত্য যে, ভালো, দক্ষ শিক্ষক তৈরি ছাড়া আধুনিক, মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। আর প্রশিক্ষণ ছাড়া ভালো শিক্ষক তৈরি হয় না। অতএব শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। তবে তা যেন দায়সারা গোছের না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা জরুরি। শিক্ষক প্রশিক্ষণে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। যেটুকু বরাদ্দ আছে তাও যেন সঠিকভাবে কাজে লাগে এবং এক্ষেত্রে যেন কোনরকম দুর্নীতি না হয় সেদিকে নজর দেয়া উচিত। প্রশিক্ষণের ব্যাপ্তিকাল ও পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত যেন তা থেকে সত্যিকার অর্থেই লাভবান হতে পারেন শিক্ষকগণ।

সৌজন্যে: দৈনিক সংবাদ

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s