১৯৯ কলেজ জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

অভিপ্রিয় রায় | জুলাই ১, ২০১৬ | এমপিও

১৯৯টি বেসরকারি কলেজকে জাতীয়করণ করার অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) রাতে তিনি দুটি তালিকায় এগুলোর অনুমোদন দেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া একটি তালিকায় রয়েছে ১৫৪টি এবং আরেকটি তালিকায় রয়েছে ৪৫টি কলেজের নাম।

১৯৯টি কলেজকে জাতীয়করণ করার বিষয়টি অনুমোদন দিলেও মাধ্যমিক স্কুলের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত দেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সম্বলিত কলেজগুলোর তালিকা কঠোর গোপণীয়তায় বৃহস্পতিবারই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্র দৈনিকশিক্ষাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দৈনিকশিক্ষার হাতে থাকা তালিকা পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলেন, স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের নীতিমালা ও তালিকা তৈরির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এ এস মাহমুদকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিল। গত মে মাসের শেষের দিকে কলেজ সংক্রান্ত জাতীয়করণ কমিটি যেসব কলেজকে বাছাই করে সরকারি করার জন্য পাঠিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী সেসব কলেজকেই অনুমোদন দিয়েছেন। তবে দেশের আর কতগুলো বেসরকারি কলেজকে সরকারি করার অনুমতি দেয়া হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, সময়ই এই প্রশ্নের উত্তর দেবে।

তিনি বলেন, এখন মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কলেজগুলোকে সরকারি করার গেজেট প্রকাশ করা হবে।  এই ১৯৯টি কলেজে এখন থেকে আর কোনো শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ হবে না মর্মে মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের মতে, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একসঙ্গে এতগুলো কলেজকে সরকারি করা হচ্ছে। এরআগে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকবছর আগে ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। আর এবার একসঙ্গে ১৯৯টি কলেজকে সরকারি করার অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রায় ৫০টির মতো স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণ হয়েছে।

জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শুক্রবার বলেন, বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করে বেসরকারি কলেজগুলোর তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সেই তালিকা ধরেই কলেজগুলোকে সরকারি করার অনুমোদন দিয়েছেন। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাকী কাজ শেষ করবে।

তিনি বলেন, যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই সেসব উপজেলার একটি কলেজকে সরকারি করা হচ্ছে। সরকারি করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলার সেরা বেসরকারি কলেজকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি কলেজের জমি, অবকোঠামো, কলেজের ফলাফল, খেলার মাঠ, এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিস, উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ আরো বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সর্বোপরি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মতও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের ছুটির কাটিয়ে আগামী ১০ জুলাই সরকারি অফিস খুলবে। এর পর থেকে ১৯৯টি কলেজে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠানো শুরু করবে। এতে বলা হবে, সংশ্লিষ্ট কলেজটি উপজেলার সেরা কলেজ হিসেবে সরকারি করণের জন্য বিবেচিত হয়েছে। এসব কলেজে এখন থেকে সকল প্রকার নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ চিঠি পাওয়ার পর থেকে কলেজগুলো জাতীয়করণের প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে যাবে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী কলেজগুলোর সরকারিকরণের অনুমোদন দিলেও স্কুলেরটি এখনও দেননি। অনুমোদন পাওয়া কলেজগুলোর সরকারিকরণের প্রক্রিয়া মন্ত্রণালয়ের কলেজ শাখা সম্পন্ন করবে। স্কুল সরকারিকরণের প্রক্রিয়া তার শাখার (মাধ্যমিক) শেষ হবে বলে জানান তিনি।

প্রতারকরা সক্রিয়: 

বেশ কিছুদিন ধরেই স্কুল-কলেজ জাতীয়করণের নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যেন কাউকে টাকা পয়সা না দেয়ার কথা বলে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল এই সতর্কবার্তা নতুন করে ফের বলে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য কাউকে কোনো টাকা পয়সা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কেউ যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য কাউকে টাকা পযসা না দেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারের নীতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক স্কুল ও একটি কলেজ পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করা হবে। শুধু জাতীকরণ নয়, ভবন নির্মাণ, এমপিওভুক্তি, বিষয় খোলা, প্রকল্প অনুমোদনসহ শিক্ষা মন্ত্রণালযয়ের বিভিন্ন কাজের কথা বলে একটি প্রতারক চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ দাবি করছে।

উল্লেখ্য, ভবন নির্মাণ, এমপিওভুক্তি, বিষয় খোলা, প্রকল্প অনুমোদন প্রভৃতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রুটিন কাজ। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মন্ত্রণালয়ে এ ধরণের কাজ শেষ হয়। এসব সরকারি কাজের জন্য অর্থ আদায়ের কোনো বিধান নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা এ ধরণের কোনো কাজের জন্য অর্থ নেওয়ার বিষয় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ এ ধরণের কাজের কথা বলে টাকা দাবি করলে তাকে নিকটস্থ থানায় সোপর্দ করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s