বাংলাদেশকে খেলতে হবে না বাছাইপর্বে

টি-২০ নামের সোনার ডিমপাড়া হাঁসটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এতদিনে এসে সঠিক পদক্ষেপ নিল বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে কাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড ফাইনাল দিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরের পর্দা নেমেছে। শুধু একটি আসর নয়, টি-২০ বিশ্বকাপ ইতিহাসের একটি এলোমেলো অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটেছে রোববার।

এখন থেকে ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো প্রতি চার বছর পরপর টি-২০ বিশ্বকাপের আসর বসবে। এতদিন যা দু’বছর পরপর হতো। দৃশ্যত টি-২০ বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা অনুসরণ করেনি আইসিসি। যার বড় প্রমাণ ২০০৯ ও ২০১০ সালে পিঠাপিঠি দুটি টি-২০ বিশ্বকাপের আয়োজন। ভবিষ্যতে এমন ভুতুড়ে কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।

 ২০২০ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের পরের আসর বসবে অস্ট্রেলিয়ায়। এ আসর দিয়েই নতুন যুগে পা রাখবে টি-২০ বিশ্বকাপ। সবকিছু এখনও চূড়ান্ত না হলেও আইসিসি জানিয়েছে, টি ২০ বিশ্বকাপের ফরম্যাটেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। অনেকটা ওয়ানডে বিশ্বকাপের আদলে হবে টি-২০ বিশ্বকাপ। সুপার টেন পর্বের বদলে কোয়ার্টার ফাইনাল। প্রথম পর্বের জায়গায় গ্রুপ পর্ব। ১৬টি দল চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সবচয়ে বড় ব্যাপার, বাংলাদেশকে আর বাছাইপর্বে খেলার বিড়ম্বনা পোহাতে হবে না।

 ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে শুধু শীর্ষ ১০টি টেস্টখেলুড়ে দেশ। এ নিয়ে সহযোগী সদস্য দেশগুলো ক্ষোভে ফেটে পড়ায় টি-২০ বিশ্বকাপের দুয়ার সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। ২০২০ টি-২০ বিশ্বকাপ হবে ১৬ দলের। এরমধ্যে আইসিসির দশটি পূর্ণসদস্য দেশ সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। ২০১৯ সালে ১৪টি সহযোগী দলকে নিয়ে হবে বাছাইপর্ব। এখান থেকে চূড়ান্ত পর্বে যোগ দেবে ছয়টি দল। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে সহযোগী দলের সংখ্যা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপেও নজর কেড়েছে ‘তথাকথিত’ ছোট দলগুলো। সুপার টেনে উঠে আসা আফগানিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে হারিয়ে দিয়েছে। এবারের আসরে (ফাইনালের আগে) সবচেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন দুই আফগান বোলার মোহাম্মদ নবী (১২) ও রশিদ খান (১১)। এছাড়া সাহসী ব্যাটিংয়ে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন আফগান ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদ (২২২ রান)।

 টেস্টখেলুড়ে দেশ হয়েও বাংলাদেশকে এবার প্রথম পর্ব নামের বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসতে হয়েছে। আইসিসির এই সিদ্ধান্ত যে অযৌক্তিক ছিল, মাঠের পারফরম্যান্সই তার প্রমাণ। সুপার টেন পর্বে বাংলাদেশ কোনো জয় না পেলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে অনেক মহাতারকাকেও ছাপিয়ে গেছেন তামিম, মুস্তাফিজরা।

 এবারের আসরে (ফাইনালের আগে) সবচেয়ে বেশি রান (২৯৫), সর্বোচ্চ ইনিংস (১০৩*) ও সবচেয়ে বেশি ছক্কা (১৪) বাংলাদেশের তামিম ইকবালের। ভারতের বিরাট কোহলিও ছাড়িয়ে যেতে পারেননি তামিমকে। বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সের কথা বললে সবার আগে আসবে মুস্তাফিজুর রহমানের নাম। চোটের কারণে প্রথম চার ম্যাচে খেলতে পারেননি বাংলাদেশের এই বাঁ-হাতি পেসার। কিন্তু সুপার টেন পর্বের শেষ তিন ম্যাচেই তার বোলিং-জাদু দেখেছে বিশ্ব।

 নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার ২২ রানে পাঁচ উইকেট এবারের আসরের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। মাত্র তিন ম্যাচেই ৯ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। এছাড়া সাত ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে সেরা পাঁচ বোলারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। আগামী আসরে এসব ব্যক্তিগত অর্জন দলীয় সাফল্যে অনূদিত হবে, এই প্রত্যাশা গোটা বাংলাদেশের।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s